Tuesday, June 19, 2012

ট্রান্সফরমার চুরি রোধে দেশীয় প্রযুক্তি

ট্রান্সফরমার চুরি রোধে দেশীয় প্রযুক্তি মনজুরুল আহসান আমাদের দেশে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা দামের ট্রান্সফরমার চুরি হয়। একেকটি ১০ কেভির বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের মূল্য ৪০ হাজার টাকারও বেশি। ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার খেসারত দিতে হয় গরিব কৃষকদের। কখনো বা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বা সরকারের ঘাড়ে চাপে এর দায়ভার। এ ছাড়া নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে পুনরায় বিদ্যুৎ পেতেও অনেক সময় লেগে যায়। ফলে সেচকাজ বিঘি্নত হওয়াসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় কৃষকদের।
পত্রপত্রিকায় এই সংবাদ দেখে ট্রান্সফরমার চুরি রোধে অনুপ্রাণিত হন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের (এআইইউবি) ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অসীম কুমার সাহা। তাঁর প্রাথমিক ধারণা ছিল, এমন একটি ব্যবস্থা উদ্ভাবন করা, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ব্যক্তি ট্রান্সফরমার খোলার সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সতর্ক বার্তা পেঁৗছে যায়। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে উদ্যোগ নিয়ে ট্রান্সফরমার উদ্ধার এবং দুর্বৃত্তদের ধরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের সেখানে পাঠাতে পারে_এমন প্রযুক্তি নিয়ে তিনি গবেষণা শুরু করলেন। এ ধরনের একটি প্রযুক্তির কারিগরি উন্নয়নের জন্য তিনি শেষ বর্ষের তিন শিক্ষার্থীকে প্রজেক্ট ঠিক করে দিলেন। 'ট্রান্সফরমারের নিরাপত্তায় নিয়ন্ত্রণকক্ষে সতর্ক বার্তা পাঠানো' শিরোনামে এই প্রজেক্টে কাজ করেছেন অসীম কুমার সাহার তিন শিক্ষার্থী সিজা আফরিন, আলেয়া ফেরদৌসি এবং তানভীর আহমেদ চৌধুরী। দেশের একটি সমস্যার সমাধানে কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারগুলোর অবদানের শুরুর গল্পটা এ রকমই।
নব উদ্ভাবিত এ ব্যবস্থাটিতে মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন এই গবেষকরা। একটি মোবাইল ফোন সংস্কার করে ট্রান্সফরমারের মধ্যে বিশেষভাবে বসানো হয়। এতে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে কেউ ট্রান্সফরমার খুলে ফেলার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্ক বার্তা চলে যাবে। যতক্ষণ নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ না হবে এবং তারা উদ্যোগ না নেবে, ততক্ষণ অনবরত সতর্ক বার্তা দিতে থাকবে। এ প্রসঙ্গে প্রজেক্ট তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণকক্ষে অ্যালার্ম ধরনের ব্যবস্থা করা যাবে। এতে নিয়ন্ত্রণকক্ষে কর্মীদের মনিটরের দিকে না তাকিয়েও শব্দ শুনে বুঝবেন কোথাও ট্রান্সফরমার খুলে ফেলা হচ্ছে।'
গবেষণার সফলতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এআইইউবির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রহিম মোল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'একাধিকবার গবেষণাগারে পরীক্ষা করে তা কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।' এ উদ্ভাবনের সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর ট্রান্সফরমারে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারলে বছরে কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের ভোগান্তিও কমবে।'
প্রজেক্টের অন্যতম গবেষক তানভীর আহমেদ জানান, প্রথম সফল এ রকম একটি ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে সাকল্যে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৮৬৬ টাকা। বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন শুরু করলে এই ব্যয় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় নেমে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রযুক্তিটির উদ্ভাবক এবং সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, যে সমস্যা সমাধানের জন্য এই সফল গবেষণার উদ্যোগ, সেখানে এর ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত সংশ্লিষ্টরা উদ্যোগী হবেন।
নব উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তির বিষয়টি জানানো হলে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কম্পানির প্রকৌশল বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী সিরাজদ্দৌলা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'প্রজেক্টটি আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি সফল প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এটা সেখানে ব্যবহার করতে পারলে চুরি প্রতিরোধ করা যাবে।' এই প্রযুক্তিটির আরো উন্নয়ন কার্যকর করার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নিজেদেরই এগিয়ে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগের সদস্য প্রকৌশলী আব্দুল মোমেন তরুণদের এই উদ্ভাবনের সংবাদ শুনে প্রযুক্তিটি নিরীক্ষার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দেশেই এ ধরনের উদ্ভাবন নিজস্ব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
Source: Daily Kalerkantho, 08-10-10

সমুদ্রের উষ্ণতা থেকে বিদু্যৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

সমুদ্রের উষ্ণতা থেকে বিদু্যৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

জ্বালানির জন্য বিকল্প শক্তি ব্যবহারের ভাবনা মানুষের নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে কেউ তা করতে পারছে আর কেউ পারছে না। জার্মানির মত দেশে বিদু্যতের মূল্য যেভাবে বেড়ে চলেছে, তার ফলে এইসব বিকল্প পথে সেখানে বিদু্যৎ উৎপাদনের আগ্রহ বাড়ছে। যেমন সমুদ্রের উত্তাপ থেকে বিদু্যৎ উৎপাদনের কথা ভাবা হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার থেকে বেশি। অন্যদিকে ১,০০০ মিটার গভীরে তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ এই দুই স্তরের মধ্যে তাপমাত্রার ব্যবধান ২০ ডিগ্রিরও বেশি। ঠিক এই পার্থক্যকে কাজে লাগিয়েই বিদু্যৎ উৎপাদন করা সম্ভব। -খবর ডয়চে ভেলের।

এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে যারা কাজ করছে, তাদের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্সের আধা-সরকারি জাহাজ নির্মাণ সংস্থা ডিসিএনএস। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'ওশান থার্মাল এনার্জি কনভার্শন' বা 'ওটেক'। বিদু্যৎ উৎপাদনের পদ্ধতিও বেশ সহজ। প্রথমে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপের মধ্য দিয়ে সমুদ্রের গভীরের ঠাণ্ডা পানি সমুদ্রপৃষ্ঠে পাম্প করা হয়। এই পানি এক বিশেষ ধরনের গ্যাসকে তরল পদার্থে পরিণত করে। সবশেষে এই তরল গ্যাস সমুদ্রপৃষ্ঠের গরম জলের সংস্পর্শে এসে ফুটতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চালু রাখলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করার টার্বাইন বা বিশাল চাকা ঘোরানো সম্ভব। কয়লার সাহায্যে তাপবিদু্যৎ কেন্দ্রেও প্রায় একই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদু্যৎ উৎপাদন করা হয়।

তবে 'ওটেক'-এর ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অনেক কম থাকে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনোরকম কার্বন-ডাই-অক্সইডের নির্গমণ ঘটে না। ফলে এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ পরিবেশ বান্ধব। ডিসিএনএস'এর প্রতিনিধি এমানুয়েল ব্রশার এ সম্পর্কে বলেন, বায়ুশক্তি বা সৌরশক্তির ক্ষেত্রে সবসময়ে বিদু্যৎ উৎপাদন সম্ভব নয়? কখন বাতাস বইবে বা কখন রোদ উঠবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সমুদ্রের এই শক্তি কাজে লাগিয়ে একটানা বিদু্যৎ উৎপাদন করা যায়। এটা একটা বিশাল সুবিধা।

বাস্তবে প্রয়োগ:গত শতাব্দীর আশির দশকেই সমুদ্রশক্তি চালিত বিদু্যৎ উৎপাদনের উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। বেশ কিছু প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক যন্ত্রও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সে সময়ে তেলের দাম কম থাকায় খরচে পোষায়নি। এখন তেলের দাম বেড়ে চলায় ও পরিবেশের ক্ষতির কারণে 'ওটেক' পদ্ধতি আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এমানুয়েল ব্রশার বেশ কিছু বড় আকারের প্রকল্পের কথা জানালেন। তিনি বললেন, ''আমরা প্রাথমিক স্তরে এক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছি, যা ১০ মেগাওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদন করতে পারবে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে এক রিপোর্টও তৈরি হয়ে গেছে। এই মডেল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল আমাদের এই প্রযুক্তির জন্য বিনিয়োগকারীদের মন জয় করা। ২০১৫ সালে আমাদের কেন্দ্র বিদু্যৎ উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।

সমুদ্রশক্তি কাজে লাগিয়ে বিদু্যৎ উৎপাদন করলে সেই এলাকার উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের উপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বিচ্ছিন্ন যেসব দ্বীপে বিদু্যৎ সরবরাহ করা কঠিন, তাদের জন্য এমন বিদু্যৎ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়।
Source: Daily Ittefaq

তরুণ বিজ্ঞানী জিয়নের আরও কিছু আবিষ্কার

তরুণ বিজ্ঞানী জিয়নের আরও কিছু আবিষ্কার

আসাদুজ্জামান সাজু
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার মুমতাহিন জিয়ন নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তৈরি করতে থাকে বিভিন্ন প্রজেক্ট। এভাবেই সে উদ্ভাবন করে পারিবারিক বায়ুবিদ্যুত্, পা-চালিত বিদ্যুত্, ঘর শীতলীকরণ যন্ত্র, জ্বালানিবিহীন সেচযন্ত্র ইত্যাদি। আমার দেশ-এ জিয়নের প্রজেক্টগুলো নিয়ে ৩টি প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তার উত্সাহ দিন দিন বেড়েই চলে।
জিয়ন মনে করেন, প্রযুক্তি খাতে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রথম আমদানিকৃত পণ্যগুলোর তালিকা এবং তা দেশে উত্পাদনে শিল্পপতিদের উত্সাহিত করাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে সরকারকে। প্রযুক্তি যদি জনগণের কল্যাণে না আসে তবে তা বৃথা। এভাবে চিন্তা করতে গিয়েই হঠাত্ মাথায় আসে এনার্জি সেভারের বিষয়টি। দীর্ঘ সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এনার্জি সেভারটি পূর্ণাঙ্গতা পায়। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি পরিবার ২০ থেকে ৩৫ ভাগ বিদ্যুত্ সাশ্রয় করতে পারবে। জিয়নের কয়েকটি প্রকল্প হলো—
বায়ুবিদ্যুত্ প্রকল্প : বায়ুবিদ্যুত্ প্রকল্প সফল করতে পুরনো বাইসাইকেলের বিয়ারিংয়ের সঙ্গে ডায়নামা যুক্ত করে পেনিয়ামের সাহায্যে সেটি বাতাসে ঘুরানোর উপযোগী করা হয়। এরপর সিলিং ফ্যানের পাখা সেট করে পরীক্ষামূলক বাড়ির ছাদে স্থাপন করা হয়। বাতাসে পাখা ঘুরে ডায়নামো দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পন্ন হয়ে ব্যাটারি চার্জ হয়।
পা-চালিত বিদ্যুত্ প্রকল্প : জিয়নের পা-চালিত বিদ্যুত্ প্রকল্পটি দিয়ে আধাঘণ্টা ব্যায়াম করার ফলে একটি পরিবার ৩ ঘণ্টা বিদ্যুত্ পেতে পারে।
ঘর শীতলীকরণ যন্ত্র : সুতো পানির ব্যবহারে বিদ্যুত্চালিত এ যন্ত্রটি কিছুক্ষণের মধ্যে ঘরকে শীতল করে ফেলে। এর বিদ্যুত্ খরচ সাধারণ একটি ফ্যান চালানোর চেয়ে বেশি নয়। এ কারণে একটি মধ্যবিত্ত পরিবার তার ঘরটি শীতল রাখতে এটি সহজ মূল্যে কিনতে পারবে।
জ্বালানিবিহীন পানি উত্তোলন যন্ত্র : মূলত বায়ুর চাপে এটি কাজ করে। রিফ্লেকটরের সাহায্যে সূর্যের তাপে এটিকে বায়ুশূন্য করে পরবর্তী সময়ে শীতলীকরণের মাধ্যমে নিচ থেকে পানি উপরে ওঠে আসে এবং তা স্বল্প সেচ কাজে ব্যবহার করা যায়। জিয়নের পড়াশোনার পুরোটাই কেটেছে সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করেও ইন্টারনেটের বদৌলতে বিশ্বকে নিয়েছে হাতের মুঠোয়। হাতিবান্ধা এসএস উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জ্ঞান সবার মাঝে পৌঁছে দিতে ক’জনে মিলে বের করে ইলেক্ট্রনিক্স অ্যান্ড কম্পিউটার টেকনোলজি নামক একটি পত্রিকা। তাতে সে সহকারী সম্পাদকের ভূমিকা পালন করে। জিয়নের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পেটি অফিসার, মা গৃহিণী। জিয়ন খুদে বয়সে ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টার, কিডস জোন ও টেকনোলজিবেজের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। জিয়নের  মোবাইল : ০১৭১৯৪০২০০২

Monday, June 18, 2012

বায়ু বিদ্যুৎ

বায়ু বিদ্যুৎ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে


তিন পাখাবিশিষ্ট বায়ুকল
বায়ু বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি হতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ। বাযুপ্রবাহ হতে ঘোরা বিশাল আকারের পাখা দ্বারা টারবাইন ঘুরিয়ে এই বিদ্যুত উৎপাদন করা হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত পৃখিবীব্যাপি ১২১.১ গিগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের নথি পাওয়া যায়। পৃথিবীর মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১.৫ শতাংশ বায়ুবিদ্যুৎ। পূণর্ব্যবহারোপযোগী ও জ্বালানিবিহীন হওয়ায় এর উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউরোপের ডেনমার্ক, জার্মান, স্পেন, পর্তুগাল, সুইডেন প্রভৃতি দেশে এর ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। মে ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্বের ৮০টি দেশে বাণিজ্যিকভাবে বায়ুবিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।
বায়ুর গতি ঘন্টাপ্রতি কমপক্ষে ৭-১০ মাইল হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

কুতুবদিয়া বায়ু বিদ্যুৎ স্বপ্ন দেখাচ্ছে নতুন দিনের 

 

99989_1।। রফিকুল বাসার ও সারওয়ার সুমন কুতুবদিয়া থেকে ফিরে ।।
বাড়ছে বাতাস, ঘুরছে পাখা, জ্বলছে আলো। বিষয়টি এমনই। সমুদ্রের পাড়ে প্রাকৃতিক বাতাসে পাখা ঘুরছে। আর সেই পাখা ঘোরা থেকে তৈরী হচ্ছে বিদ্যুৎ। পরিষ্কার বা দূষণমুক্ত বিদ্যুৎ। উন্নত অনেক দেশের মতো বাংলাদেশ যুক্ত হলো এই বায়ু বিদ্যুতের যুগে। সমতলভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন সমুদ্র উপকূল কুতুবদিয়াতে স্থাপন করা হয়েছে এই বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
শুক্রবার বাংলাদেশের প্রথম এই বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা সরেজমিন ঘুরে এর নানা তথ্য জানা গেছে। দীর্ঘদিন পরীক্ষা আর নানা আলোচনা-সমালোচনার পর ৩০শে মার্চ বাতাস থেকে উৎপাদন হওয়া বিদ্যুৎ মানুষের ঘরে গিয়ে আলো জ্বালানো শুরু করেছে। ছোট পরিসর। মাত্র এক মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই কেন্দ্র। ৫০ ফুট উচ্চতার ৫০টি বিশেষ খুঁটি বা টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটির মাথায় তিনটি করে পাখা। পাখাগুলো ১৪ ফুট লম্বা। সাথে জেনারেটর। পাখা ও জেনারেটর মিলে ১ দশমিক ২ টন ওজন।
সমুদ্র থেকে বাতাস আসছে। আর সেই বাতাসে পাখা ঘুরছে। এই পাখা ঘোরা থেকেই বিদ্যুৎ হচ্ছে। তবে সরাসরি এই বিদ্যুৎ গ্রাহককে দেয়া হচ্ছে না। প্রথমে ব্যাটারিতে জমা করা হচ্ছে। পরে সন্ধ্যায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
বাতাসে যে পাখা ঘুরছে তা স্বয়ংক্রিয়। ব্যাটারির চার্জ পুরোপুরি হয়ে গেলে পাখা ঘোরা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাটারির বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে গেলে আবার ঘুরতে থাকে পাখা। তবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি দেয়া গেলে সমস্যা কিছুটা কম হতো। পাখা থেকে যে বিদ্যুৎ হচ্ছে তা প্রথমে রাখা হচ্ছে এক কিলোওয়াট ক্ষমতার একহাজার ব্যাটারিতে। পাখা থেকে আসছে বিকল্প বিদ্যুৎ (অল্ট্রানেটিভ কারেন্ট, এসি)। আটটি ইনভেটর আছে। সেখানে এসি থেকে ডাইরেক্ট কারেন্ট (ডিসি) হচ্ছে। এক হাজার ব্যাটারি থেকে এই ইনভেটরে বিভিন্ন ভোল্টের বিদ্যুৎ আসছে। সেখান থেকে আরো আটটি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (কন্ট্রোল প্যানেল) বিভিন্ন ভোল্টকে এক ভোল্টে পরিণত করছে। এখান থেকে দুইটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ১১হাজার ভোল্ট করে গ্রীডে চলে যাচ্ছে। সেখান থেকে গ্রাহকরা তাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ পাচ্ছে।
কুতুবদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) তার নিজস্ব লাইন দিয়ে সরবরাহ করছে বিদ্যুৎ। কুতুবদিয়ায় ডিজেল চালিত ১৬০ কিলোওয়াট ও ২৫০ কিলোওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎ ইউনিট আছে। কিন্তু ২৫০ কিলোওয়াট-এর ইউনিটটি গত দুমাস ধরে নষ্ট। ১৬০ কিলোওয়াটের মধ্যে উৎপাদন হয় ১০০ কিলোওয়াট। একই লাইনে বায়ু বিদ্যুৎ ও ডিজেল বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। যখন বায়ু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তখন ডিজেল চালিত যন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। আবার ডিজেল বন্ধ রেখে বায়ু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
গ্রাহকরা অবশ্য প্রথমে যে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল সে আকাঙক্ষা মেটাতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। কারণ এক হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ বায়ু কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা যায়নি। এখনো ৪০০ থেকে ৬০০ কিলোওয়াট সরবরাহ করা হয়েছে। বায়ু ও ডিজেল মিলিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ৩ থেকে ৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে কুতুবদিয়ায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর পর দুটি ঝড়ে বেশ কিছু পাখা ভেঙ্গে যাওয়া ও কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে পুরোপুরি উৎপাদন হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি এটা আবার পুরোপুরি উৎপাদনে যাবে।
সম্পূর্ণ পিডিবির নিজস্ব অর্থায়নে এই কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর জন্য খরচ করা হয়েছে ৯ কোটি টাকা। ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে এটি স্থাপন কাজ শুরু করা হয়। ৯ মাসে শেষ হয়। চীন থেকে এই প্রযুক্তি আমদানি করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও তৈরী করা হয় কিছু অংশ। কেন্দ্র স্থাপন করতে যে খরচ হয়েছে তারপর আর কোন জ্বালানি খরচ নেই। শুধু পরিচালনার জন্য ৪ জন টেকনিশিয়ান প্রয়োজন হবে। যাদের দিতে হবে মাসিক বেতন।
প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল রহমান বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পর উপদেষ্টা। আগামী মার্চ মাসে তিনি এই প্রকল্প পিডিবির কাছে হস্তান্তর করবেন। ফজলুল রহমান ইত্তেফাককে বলেন, অনেকে বলেন বাংলাদেশে বাতাস নেই। এখন প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশে প্রচুর বাতাস আছে। সাত বছর নিয়মিত চললে এর টাকা উঠে আসবে। কুতুবদিয়ার এই কেন্দ্রকে ঘিরে আরো ২০ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন। বলেন, আমাদের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় সাশ্রয়ী এমন প্রকল্পে তৈরি করা সম্ভব আরো অন্তত ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কক্সবাজার পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সামসুল আলম বলেন, এটি খুব সম্ভাবনাময়ী প্রকল্প। আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা হলে অন্য এলাকাতেও করা সম্ভব। বড়ঘোফ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, বায়ু বিদ্যুতের আলোয় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই করা যায় প্রয়োজনীয় সব কাজ। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাখাগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। সমাধান করতে হবে কারিগরি ছোট-খাটো ত্রুটিগুলোও। আলী আকবর ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এটিএস নূরুল বসর চৌধুরী দিনে তিন চার ঘন্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে বলে জানান। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কুতুবদিয়া অঞ্চলের আবাসিক প্রকৌশলী আজগর আলীও মনে করেন ঠিকঠাকভাবে পরিচালিত হলে বায়ু বিদ্যুৎ দিয়ে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘কুতুবদিয়ার প্রকল্পটি প্রথম হওয়ায় নতুন অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। পুরনো হতে হতে এসব সমস্যা ক্রমশ কমে আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।’ বর্তমান প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সাগর পাড়ে পর্যাপ্ত বাতাস থাকলেও ব্যাটারীতে চার্জ দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা যাচ্ছে না। এজন্য কোটি টাকা দামের বুস্টারের প্রয়োজন থাকলেও প্রকল্প কর্মকর্তা তা এখনো লাগাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়েজ আহমদ বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পকে আদর্শ আখ্যা দিয়ে বলেন, যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান করা দরকার। আমরা এ থেকে উপকার পাওয়া শুরু করেছি। ভবিষ্যতে আরো পাব বলে আশা করছি। শনিবার সন্ধ্যায় বায়ু বিদ্যুৎ থেকে তিন/চার ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
Source: http://digitalphulbari.blogspot.com


বিদ্যুৎ মানব

বিদ্যুৎ মানবরাস্তায় গাড়ির চাপ থেকে বিদ্যুৎ, হস্তচালিত বৈদ্যুতিক বাতি, আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ, খেলনা গাড়ি, সেমি-অটোরিকশা_সব মিলিয়ে প্রায় ৩০টি আবিষ্কার আছে তাঁর ঝুলিতে। গবেষকের নাম এইচ এম ওয়াহিদুজ্জামান বাচ্চু। সম্ভাবনাময় এই গবেষকের উদ্ভাবনগুলোর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন সমুদ্র সৈকত বলিউডের 'তারে জামিন পার' ছবির ছোট্ট দারশিলের কথা মনে আছে? তার মতোই ডানপিটে ছিলেন বাচ্চু। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময়ই পাঁচ চাকার ইলেকট্রিক খেলনা গাড়ি বানিয়ে বন্ধুদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। শিক্ষকদের বাহবাও পেয়েছিলেন বেশ। স্কুল পালিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরেফিরে খুঁজে বেড়াতে লাগলেন ফেলে দেওয়া ব্যাটারি, টিনের কৌটা, ভাঙা চুম্বক, পেরেক ও বিদ্যুতের তার। বাসায় এনে নাড়াচাড়া করতে করতেই তৈরি করেছেন কত কী। স্কুলের গণ্ডি আর টানল না তাঁকে। এসএসসি পর্যন্ত পড়েই ঢুকে পড়লেন নিজের জগতে। এরপর কেটে গেল কয়েক দশক।
প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা না থাকলেও বই পড়েই শিখেছেন বিজ্ঞানের সাধারণ বিষয়গুলো। তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন 'ওয়াহিদ ল্যাব'। যে গবেষণাগার দেখতে এখনো স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসেন বাঘা বাঘা শিক্ষকরাও।

রাস্তায় বিদ্যুৎ
রাস্তায় গাড়ি চলবে, আর সেই গাড়ির চাপে তৈরি হবে বিদ্যুৎ। প্রযুক্তির নাম_'ওয়াহিদ পাওয়ার এনজি-৪'। এটি পুরোপুরি চাপের ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভাবক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, এক হাজার কিলোওয়াট বা এক মেগাওয়াটের প্রতিটি পাওয়ার প্ল্যান্টের দৈর্ঘ্য হবে ৫০ মিটার এবং প্রস্থ ৩ মিটার। প্ল্যানটি তৈরি করতে হবে ইস্পাত দিয়ে। দেখতে অনেকটা বেইলি ব্রিজের মতো হবে। ব্যস্ত হাইওয়ের পাশে এই পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা যাবে। প্ল্যান্টের ওপর দিয়েই চলবে গাড়ি। এমন একটি এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্ল্যান্টে হারমোনিয়ামের মতো ৫০টি পাওয়ার বাটন থাকবে। এর ওপর দিয়ে গাড়ি চললে প্রতিটি বাটনে চাপ পড়বে এবং এতে করেই বিদ্যুৎ তৈরি হবে।
পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে যুক্ত হবে না। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ব্যাটারিতে চার্জ করা বিদ্যুৎ দুই-তিন দফায় সাত থেকে আট ঘণ্টা পর পর গ্রিডে যুক্ত করতে হবে। আর এই প্ল্যান্ট স্থাপনে বিদেশি কারিগরি সহযোগিতাও লাগবে না।
২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে খণ্ড খণ্ড অথবা একত্রে এক কিলোমিটার লম্বা পাওয়ার প্ল্যান্ট বসাতে হবে। এই হিসাবে মাত্র ২৫ কিলোমিটার পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে ওয়ানওয়ে ৫০০ মেগাওয়াট এবং টুওয়ে রাস্তায় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
ওয়াহিদুজ্জামান জানান, প্রতি এক মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনে খরচ পড়বে প্রায় ৯ কোটি টাকা। চার-পাঁচ মেগাওয়াটে এ খরচ আনুপাতিক হারে কমে আসবে। এ প্রযুক্তির সুবিধা হলো, একবার স্থাপনের পর রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ কোনো খরচ নেই।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সিলিং ফ্যান
সৌরবিদ্যুতে চালানোর উপযোগী নতুন প্রযুক্তির সিলিং ফ্যান উদ্ভাবন করেছেন গবেষক ওয়াহিদুজ্জামান। এর মধ্যে ২৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের চার ব্লেডের দুটি ও ৩৬ ইঞ্চি ব্লেডের একটি মডেল তৈরি করেছেন। একটি ফ্যান চলবে মাত্র একটি এএ সাইজের ১ দশমিক ৫ ভোল্ট ব্যাটারিতে। তবে ১২ ভোল্ট প্রয়োগে আরো জোরে ঘুরবে পাখা। বিদ্যুৎ খরচ হবে ১৫ থেকে ২০ ওয়াট।

আবর্জনা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ
ধানের খড়, চিটা, তুষ, গমগাছ, মুগ-মসুর-খেসারি গাছের ডাল, আলুগাছ, কাঠের গুঁড়ো, আখের ছোবড়া, ডাব-নারিকেলের ছোবড়া এমনকি গোবরের চট-মুটিয়া প্রভৃতি বর্জ্য পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সহজ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন এই গবেষক। নাম দিয়েছেন 'ওয়াহিদ পাওয়ার এনজি-৩'। গিয়ার, টারবাইন, বয়লার, জেনারেটর যুক্ত করে খুব সহজেই পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি সম্ভাব। ওয়াহিদুজ্জামান জানান, 'আমার মডেলটি বড় আকারে তৈরি করতে ২ দশমিক ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য খরচ পড়বে প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

সেমি অটোরিকশা
আমাদের দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের চেয়ে চাহিদা অনেক গুণে বেশি। তাই প্রতিদিন পোহাতে হয় লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ। জানা যায় যে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১৬ ভাগের এক ভাগ চলে যায় ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ করতে। শহর থেকে গ্রামে এখন অটোরিকশার ছড়াছড়ি। বৈধ ও অবৈধভাবে এসব যানবাহন চার্জ দিতে প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে প্রচুর বিদ্যুৎ। প্রতিদিনের এই বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করতে তাই উদ্ভাবক ওয়াহিদুজ্জামান গত ২৬ অক্টোবর তৈরি করেছেন সেমি অটোরিকশার মডেল। সাধারণ রিকশার চেন-গিয়ার-প্যাডেল ঘোরানোর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতে চলবে এই যান। এতে শক্তিও লাগবে কম। রিকশা চালাতে যানজটে আটকা পড়লে কিংবা অবসরে প্যাডেল ঘুরিয়ে ১২ ভোল্টের রিচার্জবেল ব্যাটারি চার্জ দেওয়া যাবে। পরে সুইচ টিপে চালানো যাবে রিকশা। এতে গতিও বাড়বে আনেকখানি। দামও থাকবে রিকশাওয়ালাদের সাধ্যের মধ্যে।

আরো আরো যন্ত্র
ওয়াহিদুজ্জামানের অন্যান্য উদ্ভাবনগুলো হলো_হাতে গিয়ার ঘুরিয়ে তৈরি বিদ্যুতে চলবে এমন টর্চ লাইট, টেবিল ল্যাম্প, 'অটো পাম্প কন্ট্রোলার-২', রিকশা ও ভ্যানের জন্য 'অটো হারিকেন', রিমোট কন্ট্রোলারচালিত রিচার্জেবল 'বেবি কার', এক ব্যাটারিচালিত 'বেবি ইউরিন এলার্ম' এবং 'ব্যাটারিচালিত বেশ কিছু খেলনা গাড়ি'। এছাড়া পানির কলে লাগিয়েছেন এমন সেন্সর, যাতে করে কলের নিচে হাত রাখলেই পড়বে পানি।

স্বপ্ন
এ উদ্ভাবক এখন কাজ করছেন 'ওয়াহিদ পাওয়ার টেকনোলজি (ওয়াহিদ ইঞ্জিন)' নিয়ে। এতে বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ তৈরি হবে। এতে সামান্য চাপ প্রয়োগেই আশাতীত পরিমাণ বিদ্যুৎ তৈরি হবে বলে দাবি করছেন ওয়াহিদুজ্জামান।
ওয়াহিদুজ্জামান আরো জানান, পুঁথিগত বিদ্যার বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাধারণ সূত্রের মধ্যে কাজ করছেন না তিনি। তবে তাত্তি্বকভাবে যে সফলতা এতে পেয়েছেন তাতেও যথেষ্ট আশাবাদী।
এ কাজে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠানের আলাপ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সহায়তা পেলে যে তিনি আরো এগিয়ে যাবেন, তা তার 'ওয়াহিদ ল্যাব' ঘুরে এলেই বোঝা যাবে।

বান্দরবানে বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টের গ্যাস সিএনজি-সিলিন্ডারে বিক্রি হচ্ছে

বান্দরবানে বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টের গ্যাস সিএনজি-সিলিন্ডারে বিক্রি হচ্ছে

০০মিলন চক্রবতর্ী, বান্দরবান

বান্দরবানে বায়োগ্যাস পস্ন্ল্ল্যান্টে উৎপাদিত গ্যাস সিএনজি ও সিলিন্ডারে বিক্রি হচ্ছে। বায়ো গ্যাস পস্ন্যান্টের উৎপাদিত বিদু্যতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে প্রকল্পসহ আশপাশের ঘরবাড়ি। জেলা সদরের সূয়ালক এলাকায় ২ একর পাহাড়ী জমির উপর বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্ট করেছে খোকন দাস। বেকার এই যুবকের উদ্ভাবিত বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্ট দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। দুই একর পাহাড়ী জমির উপর প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে গড়ে তোলা বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্ট পার্বত্য চট্টগ্রামে মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন প্রতিদিন বান্দরবানে উদ্ভাবিত বায়োগ্যাস প্রকল্পের কৌশল শিখতে ভীড় জমাচ্ছে সূয়ালকে। বায়োগ্যাস প্রকল্পটি থেকে বর্তমানে ৫ হাজার ওয়াট বিদু্যৎ উৎপাদন ছাড়াও সিএনজি ও গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিদিন উক্ত পস্ন্ল্যান্ট থেকে সাতকানিয়া ও কেরানীহাট সড়কে চলাচলকারী সিএনজিগুলো গ্যাস ভরাট করে নিচ্ছে বলে জানান সংশিস্নষ্টরা। পাশাপাশি উৎপাদিত গ্যাস এখন গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তি করে বান্দরবানসহ পার্শ্ববতর্ী বাজারগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রকল্প থেকে প্রচুর পরিমাণ জৈব সারও উৎপাদন করা হচ্ছে। আর্থিক সংকটে ক্ষুদ্র বায়োগ্যাস প্রকল্পটি বৃহৎ পরিসরে করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান উদ্ভাবক খোকন দাস। তিনি আরো জানান, বর্তমানে বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্টে মাত্র ৯টি গরু এবং কিছু হাঁস-মুরগি রয়েছে। কিন্তু বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্টের জন্য প্রচুর পরিমাণ কাঁচা গরুর গোবর ও হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা প্রয়োজন। এ কারণে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরুর গোবর এবং হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা সংগ্রহ করে বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্ট চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টে গ্যাসের চাপ প্রচুর। সার্বক্ষণিক গ্যাসের চাপ ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণে গরুর গোবর দরকার হলেও জেলায় প্রয়োজনীয় গরুর গোবর পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান আবিষ্কারক খোকন দাস। অপরদিকে বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্টে উৎপাদিত ৫ হাজার ওয়াট বিদু্যৎ জেনারেটরের সাহায্যে সূয়ালক বাজার ও পাশর্্ববতর্ী বসতবাড়িতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা এবং টেকনিক্যাল সাপোর্ট (যন্ত্রাংশ) পাওয়া গেলে উদ্ভাবিত বায়োগ্যাস পস্ন্ল্যান্টের মাধ্যমে বান্দরবানে গ্যাসের সংকট দূর করা সম্ভব বলে মনে করছে স্থানীয়রা। বর্তমান সময়ে বিদু্যৎ সংকট দূর করতে বেসরকারীভাবে এই ধরনের উদ্যোগ অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে। রবিবার ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊধর্্বতন কর্মকর্তারাও প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছে।
Source: Daily Ittefaq

বায়োগ্যাস থেকে সিএনজি:
বান্দরবানের খোকন দৃষ্টি কেড়েছেন সারাদেশের কৃষি উদ্যোক্তার
- মাটি ও মানুষের কৃষি ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত বহুবার বায়োগ্যাস পস্ন্যান্ট স্থাপন ও কৃষকের লাভবান হওয়ার কথা আমরা পত্র-পত্রিকা কিংবা টিভির মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনেক ঝক্কি ঝামেলা পার হয়ে শেষ পর্যন্ত তারা দেখতে পেরেছেন সফলতার মুখ। আপনারা দেখেছেন তিন বছর আগে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের শ্যামেরঘন গ্রামে আব্দুর রাজ্জাক সিএনজি চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে মাঠে মাঠে সেচ সুবিধা পেঁৗছে দিতে। রায়গঞ্জ উপজেলা ছাড়িয়ে সিএনজি চালিত সেচ পাম্প পেঁৗছে যায় তাড়াশ উপজেলায়। অগভীর থেকে গভীর নলকূপের মাধ্যমেও চলতে থাকে সেচ সুবিধা পেঁৗছে দেয়ার কাজ। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের পটিয়ায় শিকলবাহার দুগ্ধপলস্নীর ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে বায়োগ্যাস পস্ন্যান্ট। গ্যাসের বিদু্যতে আলোকিত হচ্ছে এক একটি ঘর, মিটছে তাদের নিত্য দিনের জ্বালানি চাহিদা।
বায়োগ্যাস পস্ন্যান্ট থেকে জ্বালানি হয়, বড় জোর জ্বলে বাতি, খামার পর্যায়ে এ প্রযুক্তির বিকাশ ছিল একুটুই। বান্দরবানের খোকন দাসই প্রথম বায়োগ্যাসের আরো কার্যকর ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন। ইতিমধ্যে টেলিভিশন ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার কল্যাণে তার এ সফলতা পেঁৗছে গেছে অনেক অনেক দূর। সারাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষি উদ্যোক্তার দৃষ্টি এখন এমন লাভজনক উদ্যোগের দিকে। কারণ, আমাদের দেশে দিন দিন বাড়ছে জৈব সারের চাহিদা; সে সঙ্গে জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথা তো বলাই বাহুল্য। আছে বিদু্যতের চাহিদা মেটানোর প্রয়োজনে বায়োগ্যাস থেকে দেয়া বিদু্যতেরও।
খোকন দাস দরিদ্র পরিবারের সন্তান। লেখাপড়ায় প্রাথমিক শ্রেণীর গণ্ডি পেরোতে পারেননি। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তার ভাবনায় গুরুত্ব পায় কৃষি। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা থেকে শুরু করে কীটনাশকের আগ্রাসন থেকে কৃষিকে বাঁচানোর জন্য চিন্তা-ভাবনা করে আসছেন অনেক আগে থেকেই। তার চিন্তায় ছিল উৎকৃষ্টমানের জৈব সার তৈরির বিষয়টি। এ চিন্তার পথ ধরেই একদিন পেঁৗছে যান বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টের কাছে।
খোকন দাস করতে চেয়েছেন ব্যতিক্রম কিছু। তাই বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টেই তিনি থেমে থাকেননি। পস্ন্যান্ট নিয়ে নতুন নতুন চিন্তা করেছেন রাত-দিন। দিনের পর দিন এঁকেছেন নতুন নতুন মানচিত্র। একদিন সূয়ালক এলাকায় ২একর পাহাড়ি জমির উপর গড়ে তোলা বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টটির দিকে দৃষ্টি আনতে পেরেছেন সারা দেশবাসীর। খোকন তার বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টের সঙ্গেই যুক্ত করেছেন গ্যাস জেনারেটর। সেখান থেকে উৎপাদিত বিদু্যতের শক্তি দিয়ে বায়োগ্যাসকে তৈরি করেছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসে। যাকে আমরা সিএনজি বলি।
দেশের লক্ষ লক্ষ যানবাহনের সবচেয়ে লাভজনক জ্বালানি সিএনজি। এখন প্রতিদিনই সিএনজি চালিত অটোরিক্সা আসে খোকনের এই পাম্প থেকে গ্যাস নিতে। এখানে ভাল মানের সিএনজি পাওয়াতে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন সিএনজি পরিবহনের চালকরা। খুব বেশি সিএনজির চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না ঠিকই কিন্তু এলাকাবাসী এখন বিশ্বাস করেছে যে এখান থেকে একদিন ঠিকই তাদের নানা ধরনের চাহিদা পূরণ হবে। কিন্তু মানুষের আশা বাড়িয়ে দেয়া এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন অনেক অনেক অর্থের।
বর্তমানে এই পস্ন্যান্টে মাত্র ৯টি গরু এবং কিছু হাঁস-মুরগি রয়েছে। কিন্তু পস্ন্যান্টের জন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা গোবর ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা। এ কারণে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরুর গোবর এবং হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা সংগ্রহ করে বায়োগ্যাস পস্ন্যান্ট চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টে গ্যাসের চাপ প্রচুর। সার্বক্ষণিক গ্যাসের চাপ ধরে রাখতে প্রচুর পরিমাণে গরুর গোবর দরকার হলেও জেলায় প্রয়োজনীয় গরুর গোবর পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালেন খোকন দাস। এখনো এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে খোকন চিন্তা করেন বায়োগ্যাস পস্ন্যান্টের উচ্ছিষ্ট অংশের জৈব সারকে। পস্ন্যান্টের মধ্যেই তিনি তার পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী স্থাপন করেছেন জৈব সারের একটি কক্ষ। যেখানে জমা হয় উৎকৃষ্ট মানের জৈব সার। এরও বাণিজ্যিক গুরুত্ব কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের জন্য কম নয়। খোকন দাসের এই প্রকল্পের সঙ্গে সবচেয়ে সহায়ক হিসেবে রয়েছেন এই এলাকারই যুবক নূরুল আমীন।
বান্দরবানের সূয়ালকে খোকন দাসের উদ্ভাবন ও প্রয়াস সাড়া জাগিয়েছে গোটা এলাকাসহ সারাদেশে। একটি উদ্ভাবন থেকে ছোটখাটো একটি ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে গেছে খোকন দাসের নিরলস পরিশ্রমে। সিএনজি পরিবহনের পাশাপাশি বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য সিলিন্ডারেও গ্যাস নিতে আসেন অনেকেই। গ্যাসের মান নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। এখন স্বল্প উৎপাদনেই দৈনিক কমপক্ষে তিন সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করেন খোকন দাস। যারা গ্যাস নিচ্ছেন তারাও আছেন বেশ স্বস্তিতে।
কৃষিকে লাভজনক করতে কিংবা জীবনের প্রাত্যহিক প্রয়োজনগুলো আরো সহজে মেটানোর জন্য তৃণমূলে চলছে বহু রকম গবেষণা। বিদু্যত, জ্বালানি আর জৈব সারের চিন্তা থেকেই বায়োগ্যাস, সেখান থেকেই সিএনজি। খোকন দাসের এই প্রকল্পটি এখন পর্যন্ত এদেশে বহুমুখি উৎপাদন ব্যবস্থার একটি মডেল। দেশের অনেক উদ্যোগী কৃষক ও খামারিই ইতিমধ্যে স্থাপন করেছেন বিভিন্ন আকারের বায়োগ্যাস পস্ন্যান্ট। সেখান থেকে তারা মেটাচ্ছেন দৈনন্দিন বিদু্যত ও জ্বালানির চাহিদা। এবার সিএনজির চাহিদা পূরণের চিন্তা নিয়ে এমন এক একটি পস্ন্যান্ট স্থাপিত হতে পারে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সেক্ষেত্রে খোকন দাসের এই পস্ন্যান্টটিই হতে পারে অনুসরণীয়। তা একদিকে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রতিদিনের চাহিদা পূরণে যেমন কিছু অংশের যোগানদার হতে পারে, অন্যদিকে জৈব সার উৎপাদনেও আমরা এগিয়ে যেতে পারি বেশ খানিকটা পথ

Source: Daily Ittefaq, 30th January-2011

Sunday, June 17, 2012

বিদ্যুৎ সমস্যা- টোটকা ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান

 বিদ্যুৎ সমস্যা- টোটকা ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান

বর্তমানে বাংলাদেশে চলছে চরম বিদ্যুত সংকট।একদিকে প্রচন্ড গরম অন্যদিকে ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে মানুষের প্রাণ যায় যায়।বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ হাজার ৩শ মেগাওয়াট। অন্যদিকে উৎপাদন ৩ হাজার ৭শ থেকে ৩ হাজার ৮শ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদা-জোগানের ফারাক ১ হাজার ৫শ মেগাওয়াট।এটি সরকারী হিসাব মতে। বেসরকারি হিসাবে অবশ্য বিদ্যুতের চাহিদা ৬ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। সে ক্ষেত্রে ঘাটতি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২শ মেগাওয়াট।আমার এক বন্ধু বলেছিল বাংলাদেশের যে অবস্থা তাতে আমাদের উচিত ছিল শীতপ্রধান দেশ হওয়া।কারণ

শীতকালে কারেন্ট যায়না


শীতকালে লোডশেডিং না হওয়ার মূল কারণ চাহিদা কম থাকা-বেশিরভাগ বাসা বাড়ি বা অফিসে ফ্যান বন্ধ থাকা ইত্যাদি।কিন্তু তখনও যে লোডশেডিং হয়না তা নয়।সেই ঝড়ের বেশিরভাগ যায় গ্রামবাংলার উপর দিয়ে।আমি এর প্রতক্ষ সাক্ষী।দিনে কমপক্ষে ৮-৯ ঘন্টা কারেন্ট থাকেনা শীতকালেই।গ্রীষ্ম কালে যাও কারেন্ট তারা পায় তা সেচমৌসুমের সুবাদে।কারণ আমাদের নাগরিক সরকারের বা সুশীল সমাজের গ্রামবাংলার কথা মনে পড়ে বোরো বা আমনের সেচমৌসুমে।না হলে যে সুশিলদের পেটে ভাত পড়বেনা।আর পেটে ভাত না পড়লে টানা নানা টকশোতে অংশ নেয়ার শক্তি পাবে কোথায়??এই সেচমৌসুমে যৎসামান্য বিদ্যুতপ্রাপ্তি বাদে গ্রামেরমানুষদের জন্য বিদ্যুত


"সে তো থাকে সুশিল পল্লীতে ঐ শহরে, এই গ্রামে তাকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা।"


বিদ্যুত এর এই সমস্যার আরেক করুণ শিকার এইচ.এস.সির পরীক্ষার্থীদের।এই গরমে তাদের যে কি পরিমান কষ্ট হয় তা বিগত জোট সরকারের আমলে আমি আর মহাজোট সরকারের আমলে আমার ছোটবোন টের পাচ্ছে হাড়ে হাড়ে।আমার বোনকে পালাক্রমে বাতাস করে যায় মা,বাবা আর আমি একটি হাতপাখা দিয়ে।বেশি জোড়ে বাতাস করা যায়না।কারণ মোমবাতি নিভে যায়।এভাবে বাংলাদেশের মধ্যম মধ্যবিত্ত পরিবারগুলা দিন কাটাচ্ছে।এই বিদ্যুত সমস্যা নিয়ে সামুতে একটি স্টিকি পোস্ট দেখেছিলাম।সমাধান গুলা আমার কাছে খুব একটা যৌক্তিক মনে হয়নি।তারপরও লিখেছেন তো।

প্রধানমন্ত্রী আসুন ব্লগে কথা বলি, আসুন কৃচ্ছতা সাধন করি
বিদ্যুতের যে অবস্থা তাতে এখন পাশাপাশি টোটকা সমাধান ও দীর্ঘস্থায়ি সমাধান জরুরি।না হলে আমাদের মৃতপ্রায় শিল্পকারখানা গুলি অচিরেই পুরা মৃত হয়ে যাবে।বেকার হয়ে যাবে হাজার মানুষ।দেশে একটি পুরা নৈ্রাজ্যের সৃষ্টি হবে।ফলে আমাদের সবাইকে বিদ্যুত সমস্যা নিয়ে ভাবতে হবে।
 
টোটকা সমাধানঃ(আপাতত সমাধান):

১.আপাতত আমদের সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলি কি ভিন্ন ভিন্ন বারে ফেলা যায়না?এতে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা একই সময়ে আকাশ ছুবেনা।শিল্পকারখানা গুলা একসাথে স্থবির হয়ে বসে থাকবেনা।কিছুটা হলেও লাঘব হবে সমস্যা।
২.সাধারনত আমরা যেসব এসি ব্যাবহার করি বাসাবাড়িতে সেগুলা ১-৫ টন হয়ে থাকে।যা চালাতে কারেন্ট প্রয়োজন হয় প্রায় ৩-২০ কিলোওয়াট।অথচ একটি বৈদ্যুতিক ফ্যানের কারেন্ট রেটিং মাত্র ৮০-২০০ ওয়াট।আমরা কি দেশের এই আপতকালিন সময়ে পারিনা নিজেদের সামান্য সুবিধা ছাড়তে?আপাতত আমাদের উচিত এয়ার কন্ডিশনার গুলার ব্যাবহার কমানো।গ্রিষ্মে আপাতত ফ্যান ব্যাবহার করাই ভাল।ফলে উপকার পাবে জনসাধারণ।সাশ্রয় হবে বিদ্যুতের।শপিং মল গুলাতেও কমাতে হবে অহেতুক আলোকসজ্জা ও সেন্ট্রাল এসির ব্যাবহার।
৩।সাধারন বাতির ব্যাবহার কমিয়ে বাড়াতে হবে এনার্জি সেভিং বাতি বা ফ্লুরসেন্ট লাইট।বাথ্রুম বা টয়লেটে দেখি অনেকে ৬০ ওয়াটের বাতি ব্যাবহার করেন যা অর্থহীন।এখানে ৪-৫ ওয়াটের এনার্জি সেভিং বাতি যথেষ্ট।
৪।সামুর সেই পোস্টে দেখেছিলাম বলা হয়েছে

স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মাসের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ছুটি ঘোষণা করুন। বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে। রবীন্দ্রনাথের তোতাকাহিনী গল্পটির কথা মনে আছে আপনার ? গরমে স্কুল কলেজ করতে গিয়ে কত ছেলেমেয়ে অসুস্থ হচ্ছে - একবার খবর নিয়ে দেখুন। এক মাস স্কুল বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চাঙ্গে উঠবে এমনটা ভাবার মতো আবার্চীন আপনি নিশ্চয়ই নন। সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশে পড়াশুনা করেছে - প্রয়োজনে উনার সাথে পরামর্শ করলেও আপনি নিশ্চিত হবেন , বৈরী পরিবেশে একমাস স্কুল বন্ধ রাখলে বিদ্যাবুদ্ধির কোনও ঘাটতি হয়না।


এই লাইন্টার সাথে একদম একমত না।নানা কারণ্রে আমাদের শিক্ষাজীবন এমনিতেই বড় তার উপর আবার নতুন করে বন্ধ????কতটুকুই বা কারেন্ট নেয় একটা স্কুল?এটা সমাধান হতে পারেনা আপাতত সমাধান ও না এটা।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
১।মাইক্রো পাওয়ারপ্লান্ট তৈরি করতে হবে।আমাদের দেশের দির্ঘ ট্রান্সমিশন লাইনের কারণে প্রচুর বিদ্যুতের অপচয় হয় তাই অন্চল্ভিত্তিক গ্রিড ব্যাবস্থা চালু করতে পারা যায় কিনা দেখতে হবে।

 
২।প্রতিটি ভারি ও মাঝারি শিল্প কারখানায় স্টার্লিং ইঞ্জিন ব্যাবহার করতে পারা যেতে পারে।স্টার্লিং ইঞ্জিন এক ধরনের বহির্দহ ইঞ্জিন বলে এতে যেকোন ফুয়েল ব্যাবহার করা যেতে পারে।ভারি ও মাঝারি শিল্প কারখানার WASTE HEAT বা নির্গত তাপকে ব্যাবহার করে স্টার্লিং ইঞ্জিনএর সাহায্যে প্রায় ৫০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত উতপাদন করা সম্ভব।উপরন্তু এই ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা প্রায় ৫০% এর বেশি যা ঈর্ষনিয়।
 
৩.বিকল্প শক্তির ব্যাবহার ও এ সম্পর্কিত গবেষনাকে উৎসাহিত করতে হবে।বিশেষ করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজেক্ট ও থিসিস হিসেবে সোলার ও ঊইন্ড এনার্জির সাহায্যে বিদ্যুত উতপাদন কে গুরুত্ব দিতে হবে।সোলার এনারজি নিয়ে বাংলাদেশে যেসব FYP হয়েছে সেগুলার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।যেমন 3 dimensional solar tracking device এর সাহায্যে বিদ্যুত উতপাদন নিয়ে কাজ করতে হবে।
 
৪.ঊইন্ড এনার্জি নিয়ে গবেষনা করতে হবে।যদিও বাংলাদেশে এর প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ আছে।তবুও সমুদ্রের তীর ও উপকুলে এ নিয়ে কাজ করা যেতে পারে।কুতুবদিয়ায় একটি ঊইন্ড এনার্জি প্ল্যান্ট আছে।কিন্তু এর রক্ষনাবেক্ষন নিয়ে চলছে তামাশা।বাধ নষ্ট হয়ে যাওয়ায়
এটি ডুবে যেতে পারে।সাইক্লন এর বিরুদ্ধেও নেই পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা।প্রতি একক বিদ্যুত উৎপাদনে ডিসেল জেনারেটরে লাগে ৪০ টাকা কিন্তু উইন্ড এনার্জি প্ল্যান্টে লাগে মাত্র ৮ টাকা...!!!আশার কথা আমাদের পাশের দেশ ভারত ফি বছর ১২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করে। সুতরাং সম্ভাবনা আছে আমাদেরো।তাছাড়া কুতুব্দিয়ার প্ল্যান্টের ক্ষমতাও ১ মেগাওয়াট।তাই এর সঠিক রক্ষনাবেক্ষণ জরুরি।
 
৫.নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে।এ জন্য সঠিক Location বাছাই করতে হবে।কাপ্তাই জলবিদ্যুত প্রকল্পের মত Ecological balance নষ্ট করে এমন লোকেশন কাম্য নয়।
সবশেষে জনকল্যাণে কিছু বিষয়ে ঝুঁকি নিতে হবে। উদ্দেশ্য সৎ হলে এবং সৎসাহস থাকলে ঝুঁকি সত্ত্বেও অনেক সিদ্ধান্ত দ্রুততার সঙ্গে নেওয়া যায়। (সাপ্তাহিক ২০০০)


Source: http://www.somewhereinblog.net

মাটির নিচের তাপ দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

মাটির নিচের তাপ দিয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব

সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা: মাটির নিচের তাপমাত্রাকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের মাটির নিচের উচ্চ তাপমাত্রা দিয়ে সহজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সুমছুদ্দিন আহমেদ।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছে তেল-গ্যাস পুড়িয়ে তাপ উৎপাদনের চাইতে প্রকৃতিগতভাবেই মাটির নিচের তাপমাত্রাকে কাজে লাগিয়ে সহজে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

ফিলিপাইন তাদের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৩৭ শতাংশ সমান ১৯ শ ৬৯ মেগাওয়াট, আইসল্যান্ড মোট ৩০ শতাংশ ৫৭৫ মেগাওয়াট আমেরিকা ৩ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জিও থার্মাল থেকে যোগান দিচ্ছে।
‘এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশে জিও থার্মাল এনার্জি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।’
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম একপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) সাবেক মহাব্যবস্থাপক সুমছুদ্দিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেছেন, তেল/গ্যাস/কয়লা পুড়িয়ে যে তাপ উৎপন্ন হয় সেই তাপ দিয়ে পানিকে বাষ্পীভূত করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
এর চাইতে আমাদের দেশের মাটির নিচে যে তাপমাত্রা রয়েছে তা দিয়ে সহজে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
তিনি বলেন, কুপ খনন করে পানি পাম্প করে অন্যদিক দিয়ে বাষ্পীভূত করে টারবাইনের ভিতর দিয়ে নিয়ে গেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরে রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে তা আবারও কূপে নেওয়া যায়।
জয়পুরহাটের কুচমা এলাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, এখানে ৪ হাজার মিটার মাটির নিচে গড়ে ১৪৫ ডিগ্রি,সেলসিয়াস তাপমাত্রা রয়েছে। যা দিয়ে পানি বাষ্পীভূত করে সহজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন জয়পুরহাট থেকে দেশের যতই উত্তরে দিকে যাওয়া যায় ততই মাটির নিচের এ তাপমাত্র বাড়ন্ত পাওয়া যায়।
অপর এক বিশেষজ্ঞ বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রতি ১০০মিটার মাটির গভীরতায় ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।যা রংপুর অঞ্চলে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রয়েছে।
সামছুদ্দিন আরও বলেন, জিও থার্মাল এনার্জিতে দেশের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে কাজে লাগানো যায়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দুষণমুক্ত থাকবে একই সঙ্গে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপ্লব সাধিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের এই পদ্ধতিকে জিও থার্মাল এনার্জি বলা হয়। এতে দেশের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় হলেও এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এমনকি সুইডেনের রয়েল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (কেটিএইচ) ইন স্টকহোম এর দেওয়া একটি প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে পেট্রোবাংলার অসহযোগিতার কারণে।
২০০৯ সালের ২এপ্রিলে কেটিএইচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিভাগের সঙ্গে অরগানাইজেশন অব দ্যা বাংলাদেশ জিও থার্মাল নামের একটি প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করে।
ড. হার্বার্ট হ্যংকেরকে প্রধান করে একটি প্রকল্প কমিটি করা হয়। এতে প্রকল্প ব্যবস্থাপক করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভূগর্ভের তাপমাত্রা সমীক্ষা করাও বিদ্যুৎ উৎপাদনে উপযোগী কি-না যাচাই করে দেখা।
সামছুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, প্রকল্পের পরিচালক হার্বার্ট হ্যংকার একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছিলেন। কিন্তু সরকারে সহায়তা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন।
তিনি দাবি করেন তাদের, দেশে খনিজ অনুসন্ধান ও উন্নয়নের জন্য যে সব কূপ খনন করা হয়েছে। সেসব কূপের ভূগর্ভের তাপমাত্রার তথ্য চেয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় তথ্যসহায়তা দেওয়ার জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দেয়। পেট্রোবাংলা নির্দেশ পাওয়ার পর বাপেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে।
সে মোতাবেক বাপেক্সে যোগাযোগ করলে বাপেক্সের তৎকালীন এমডি (বর্তমানে পিএসসির পরিচালক) এমাজউদ্দিন আহমেদ আমাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন।
তারপর হার্বার্ট হ্যংকের বাংলাদেশ থেকে চলে যান।
সুইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এতে লাভ কি এ প্রশ্ন করা হলে সামছুদ্দিন বলেন, হয়ত সমীক্ষা করা গেলে তারা পরবর্তীতে জিও থার্মাল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব করত।
আমাদের দেশে যে সব কোম্পানি গ্যাস ও কয়লা ক্ষেত্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে তারা খনিজ আবিষ্কার করলে সেখান থেকে তাদের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কি সে রকম কোন বিষয় জড়িত রয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ ধরণের কোনও বিষয় ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের দেশের একশ্রেণীর কর্মকর্তা আছেন যারা শুধু কোন প্রকল্প নিলে বেশি টাকা নিজের পকেটস্থ করা যাবে সেই ধান্ধায় থাকেন।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর বাংলানিউজকে জানানা, প্রফেসর হ্যংকের (সুইডেন), প্রফেসর বদরুল ইমাম এবং আমি নিজে জড়িত থেকে ঠাকুরগাঁও এ সমীক্ষা চালিয়েছিলাম। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট বলে মনে হয়নি।
সুইডেনের ওই বিশ্ববিদ্যালয় এনিয়ে আগ্রহ দেখিয়ে ছিল। আমাদের কাছে তারা তথ্য চেয়েছিল। আমরা বলেছি আপনারা নিজেরা কূপ খনন করে সমীক্ষা চালান।
তথ্য না দেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, সব তথ্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যায় না।
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই- ইলাহী চৌধুরী বাংলানিউজকে জানান, জিও থার্মাল এনার্জি নিয়ে যে সব কথা হয় সবগুলো হাওয়ার উপর। বাংলাদেশ ভূতত্ত্ব অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়ে একটি সমীক্ষা চালায়। তবে ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়।
সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা বিষয়ে বলেন, ওরা আমাদের কাছে এসেছিল আমরা তাদের কাজ করতে বলেছি।
বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার অসহযোগিতার কারণে তারা কাজ করতে পারছে না মর্মে যে অভিযোগ সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি তো ভূতত্ত্ব অধিদপ্তরের। বাপেক্স, পেট্রোবাংলা আসবে কেন?
বাংলাদেশ সময়: ১৮৫১ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১১

উদ্ভাবন: পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুত্

উদ্ভাবন: পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুত্
শুভংকর কর্মকার | তারিখ: ২৩-০৮-২০১০
পাথরকুচি পাতা থেকে তৈরি দ্রবণই বিদ্যুত্ তৈরির মূল উপাদান। বিদ্যুত্ দিয়ে এনার্জি বাল্ব জ্বালাচ্ছেন উদ্ভাবক মো. কামরুল আলম খান ছবি: মনিরুল আলম * ভাঙাচোরা একটি চেয়ারের ওপর একটি ছোট বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। লক্ষ করলে মনে হবে, পাখায় বিদ্যুত্সংযোগ নেই। আছে শুধু একটি প্লাস্টিকের মগের মধ্যে সবুজ রঙের তরল পদার্থ। সেই তরলের মধ্যে দুটি ধাতব পাত ডোবানো। পৃথক তার সেই পাত দুটিকে যুক্ত করেছে পাখার সঙ্গে। এতেই পাখা ঘুরছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি পরীক্ষাগারের সামনে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সপ্তাহখানেক ধরে এই পাখাটি অবিরাম ঘুরছে। মগের ওই তরল পদার্থ আসলে পাথরকুচি পাতার রস। ওই রসই বিদ্যুতের মূল উৎস। নতুন এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. কামরুল আলম খান। তিনি বললেন, পাথরকুচির পাতা থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ দিয়ে বাতি জ্বালানো, পাখা ঘোরানো এমনকি টেলিভিশন চালানোও সম্ভব। এতে খরচও অনেক কম। শুরুর গল্প: কামরুল আলম বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা, বিদ্যুত্ সমস্যা—এসব নিয়ে ভাববার সময় মনে হয়েছে উদ্ভাবন ছাড়া সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে না। নবায়নযোগ্য শক্তির কথাও ভেবেছেন তিনি। এসব ভাবতে ভাবতেই পাথরকুচি নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০৮ সালের শুরুর দিকের কথা। এক ছাত্রকে দিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে এক কেজি পাথরকুচি পাতা নিয়ে আসেন তিনি। তারপর শুরু হয় গবেষণা। কয়েক মাসের মধ্যেই আশানুরূপ ফল পেলেন তিনি। প্রথমে ১২ ভোল্টের ক্ষুদ্র আকৃতির বাতি জ্বালিয়ে তিনি আশার আলো দেখতে পান। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এই উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব নিবন্ধন (প্যাটেন্ট) করেন তিনি। এরপর গত দেড় বছরের গবেষণার পর বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, সাদাকালো টেলিভিশন চালাচ্ছেন তিনি। গবেষণার টেবিলে পাথরকুচি: বাংলাদেশে পাথরকুচি পাতা নামে পরিচিত হলেও (বৈজ্ঞানিক নাম Bryophillum বা ব্রায়োফাইলাম) বিভিন্ন দেশে এটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ভেষজগুণের কারণে অনেকে পাথরকুচিকে ‘মিরাকল লিফ’ বলেন। পেটের ব্যথা কমাতে দেশের অনেক অঞ্চলে এই পাতার ব্যবহার আছে। পাথরকুচির পাতায় কী আছে, যা বিদ্যুত্ উৎপাদন করে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কামরুল আলম বলেন, পদার্থের মধ্যে এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন ও ক্ষারীয় হাইড্রোক্সিল আয়ন থাকে। এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন বেশি পরিমাণে থাকলে সেই পদার্থ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, পাথরকুচি পাতায় হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণ প্রায় ৭৮ শতাংশ, যা বিদ্যুত্ উৎপাদনে খুবই সহায়ক। কামরুল আলম আরও কয়েকটি গাছের পাতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি দেখেছেন তেঁতুল, লেবু, আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো, বটের পাতায় ক্ষারীয় আয়নের পরিমাণ বেশি বলে বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভব নয়। যেভাবে বিদ্যুত্ উৎপাদিত হয়: পাথরকুচি পাতা দিয়ে ব্লেন্ডার মেশিনের মাধ্যমে শরবতের মতো দ্রবণ তৈরি করা হয়। দ্রবণে পাথরকুচি পাতা ও পানির অনুপাত হতে হবে ৮:১। ওই দ্রবণ প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা হয়। এরপর একটি তামা ও একটি দস্তার পাত দ্রবণে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। দ্রবণের সংস্পর্শে আসামাত্রই রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে তামার পাতে ধনাত্মক ও দস্তার পাতে ঋণাত্মক বিভবের (পটেনশিয়াল) সৃষ্টি হয়। বিপরীতমুখী এই বিভবের দ্বারাই দুই পাতের মধ্যে বিভব পার্থক্য হয়। এতেই বিদ্যুত্প্রবাহ সৃষ্টি হয়। বেশি বিদ্যুত্ পেতে হলে একাধিক তামা ও দস্তার পাত ঘন করে সমান্তরালভাবে বসাতে হবে। পাথরকুচি পাতা চাষ: পাথরকুচি পাতার চাষ বেশ সহজ। পাথরকুচির শুধু পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই সেখান থেকে গাছ জন্মায়। পতিত জমি, বাড়ির ছাদে, উঠানে, টবে, যেকোনো জায়গায় এই পাতার চাষ সম্ভব। কামরুল আলম বলেন, দেশের পতিত জমিতে সহজেই প্রচুর পাথরকুচি পাতার চাষ সম্ভব। আর চাষের এক মাসের মধ্যেই পাতা কাজে লাগানো যায়। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ তৈরি করতে এক মাসের মধ্যে নতুন করে পাথরকুচির দ্রবণের প্রয়োজন পড়ে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ আলোকিত করতে পরিকল্পনা করেছেন কামরুল আলম। এর জন্য ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুত্ দরকার হবে। আর ওই পরিমাণ বিদ্যুত্ উৎপাদন করতে লাগবে প্রায় ৪০০ কেজি পাতা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মুঠোফোনে তাঁকে বলেছেন, তাঁরা পাতা সরবরাহ করবেন। খরচ হবে কম: কামরুল আলম বলেন, পাথরকুচি পাতা দিয়ে বিদ্যুত্ উৎপাদনে খরচ হবে কম। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়বে এক টাকার কম। এটা সৌরবিদ্যুত্ উৎপাদন খরচের তিন ভাগের এক ভাগ। তিনি দাবি করেন, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে অবকাঠামো খাতে ব্যয় হবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি: এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বহনযোগ্য বৈদ্যুতিক পাখা তৈরি করেছেন কামরুল আলম। ১২ ভোল্টের এই বৈদ্যুতিক পাখা টানা এক মাস হাওয়া দিতে পারে। এক মাস পর শুধু দ্রবণ পাল্টে দিলেই পাখা আবার ঘুরবে। কামরুল আলম বলেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্সংযোগের আওতায় এলেও লোডশেডিংয়ে তারা বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, পল্লি অঞ্চলে তাঁর প্রযুক্তি সহজেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। প্রতিটি পরিবার নিজেদের প্রয়োজনের বিদ্যুত্ নিজেরা উৎপাদন করতে পারবে। বিদ্যুত্ উৎপাদনের পর দ্রবণের বর্জ্য অন্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। পাথরকুচির বর্জ্য কোনো পাত্রে বদ্ধ অবস্থায় রাখলে তা থেকে মিথেন গ্যাস পাওয়া যায়। এই গ্যাস দিয়ে রান্না করা সম্ভব। গ্যাস উৎপাদনের পর বর্জ্য আবার জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। চাই আরও গবেষণা: কামরুল আলম খান নিজের অর্থে এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সহায়তা নিয়ে এ পর্যন্ত গবেষণা চালিয়ে এসেছেন। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার জন্য অর্থ ব্যয় করতে পারছেন না। পাথরকুচির দ্রবণ রাখার জন্য তাঁর দরকার বড় বড় পাত্র। বর্তমানে তিনি ব্যাটারির খোলস ব্যবহার করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিশ্বব্যাংক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ‘হেকেপ প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প আছে। এই প্রকল্প গবেষণায় সহায়তা দেয়। কামরুল আলম পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন ও গবেষণার জন্য সেখানে এক কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। কামরুল আলম বলেন, পাথরকুচি পাতা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুত্ ব্যবহারের জন্য আরও একটি গবেষণা চলছে। তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেসবাহউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি চলছে। কামরুল আলম খান বলেন, ‘প্রথমে আমি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ও পরবর্তী সময়ে পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এই বিদ্যুত্ দিয়ে আলোকিত করতে চাই।’ এ ক্ষেত্রে সফল হলে তিনি দ্বীপাঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। এ জন্য ‘পাথরকুচি পাতাপল্লি’ স্থাপন করার পরিকল্পনা তাঁর আছে। তিনি বলেন, এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।Source: Daily Prothom-alo : 2010 August 23

পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুত্ : কানাইঘাটের ৫৭টি পরিবার আলোকিত

কানাইঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে ৫৭টি ঘরে গতকাল প্রাথমিকভাবে পাথরকুচি পাতা থেকে আবিষ্কৃত বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে বিকাল ২টায় স্থানীয় ইসলামাবাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে ও সমাজসেবী কামাল আহমদের পরিচালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আলম খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট-জকিগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, কানাইঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউল ইসলাম চৌধুরী, গাছবাড়ি কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আবদুর রহিম, ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ জামান ইকবাল, কানাইঘাট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, আলম অটো লাইট প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমদ, এমডি মুফিজুল ইসলাম, বানীগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ আহমদ, রাজাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইকরা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক মওদুদ আহমদ। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, পাথরকুচি পাতা থেকে আবিষ্কৃত বিদ্যুত্ দিয়ে এসি, ডিসি চলবে। গ্রাম-গঞ্জের যেখানে বিদ্যুতের আলো এখনও পৌঁছেনি, সেখানে আলম অটো লাইট লিমিটেডের মাধ্যমে স্বল্পখরচে সহজেই আমরা বিদ্যুত্ সংযোগ ও বিতরণ শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য স্থানেও এ প্রযুক্তির বিদ্যুত্ সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরিদ চৌধুরী পবিত্র কোরআনের সূরা ইয়াসিনের ৮৩নং আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য সবুজ বৃক্ষ হতে অগ্নি উত্পাদন করেন এবং তোমরা তা দ্বারা অগ্নি প্রজ্বলিত কর।’ ব্যাপক গবেষণার পর পাথরকুচি পাতা থেকে আবিষ্কৃত সিপিএস বিদ্যুত্ আলম অটো লাইট লিমিটেডের মাধ্যমে টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, গাজীপুর ও সিলেট জেলাসহ আরও বিভিন্ন স্থানে চালু করার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ লক্ষ্যে তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। আলম অটো লাইট প্রাইভেট লিমিটেডের সহযোগিতায় বাংলাদেশকে বিদ্যুতায়িত করে বহির্বিশ্বেও পাথরকুচি পাতা থেকে আবিষ্কৃত বিদ্যুত্ রফতানি করা যাবে বলে সভায় জানানো হয়।
Source: Daily Amardesh: 26th December

সার ও জ্বালানি যখন মলমূত্র

সার ও জ্বালানি যখন মলমূত্র


মানুষের মল, মূত্র এবং শরীরের ঘামেরও দাম আছে। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের চলমান গবেষণার প্রাথমিক রিপোর্টে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মতো বিশাল জনবসতিসম্পন্ন রাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মলমূত্র সংরক্ষণের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি পেলে বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষা থেকে শুরু করে বিরাটসংখ্যক শিশুর ডায়রিয়ায় মৃত্যুরোধ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সার এবং জ্বালানি হিসেবে এসব মলমূত্র ব্যবহার করা হবে বলে গবেষকরা আশা করছেন। তবে এখনই সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ সময়ে বিশ্বে সবচেয়ে বড় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের পক্ষে ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির একদল বিজ্ঞানী এ গবেষণা চালাচ্ছেন। তারা বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশের প্রায় আড়াই বিলিয়ন মানুষ মলমূত্র ত্যাগ করেন খোলা মাঠে, জঙ্গলে অথবা রাস্তার পাশে। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর, ঠিক তেমনিভাবে পরিবেশ দূষণের কারণ। গবেষকরা জানান, এছাড়া শহরাঞ্চলের আরও ২.১ বিলিয়ন মানুষ পাকা অথবা আধা পাকা পায়খানা-প্রস্রাবখানা ব্যবহার করেন, সেগুলোও যথাযথভাবে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। অর্থাত্ সেসব মলমূত্রকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ধ্বংসের কোনো পন্থা অবলম্বন করা হয়নি। ফলে তা রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে।
প্রতি বছর ১৬ লাখ শিশু মারা যাচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা-প্রস্রাবখানা ব্যবহার না করার কারণে। শুধু তাই নয়, নিকটস্থ পানি সরবরাহ লাইন অথবা খাবার পানি সরবরাহের স্তরেও বিস্তৃত হচ্ছে এসব মলমূত্রের নির্যাস। স্যানিটেশন সার্ভিস যদি সত্যিকার অর্থে নিরাপদ করা সম্ভব হয় তাহলে ডায়রিয়া রোগের প্রকোপ ২০ থেকে ৪০ ভাগ হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে মহিলা ও বালিকারাও প্রাইভেসি বজায় রেখে পর্দানশিনভাবে মলমূত্র ত্যাগের সুযোগ পাবেন।
গবেষকরা আশা করছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তা অথবা জনবসতি রয়েছে এমন এলাকায় মলমূত্র ত্যাগের জন্য স্বল্প ব্যয়ে টয়লেট অথবা পায়খানা তৈরির অনুমতি পাবেন সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে। এরপর তারা ওই কর্মসূচিকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণা চালাবেন। টয়লেটগুলো ভরে গেলে মলমূত্র সরিয়ে নেয়া হবে নির্দিষ্ট একটি স্থানে, যা পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হবে না। এরপর এমনভাবে সেগুলো সংরক্ষণ করা হবে যা ক্ষেত-খামারে সার হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী হতে পারে অথবা জ্বালানি কিংবা শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত হতে পারে।
গবেষকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাই-ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশী-আমেরিকান আতিকুর রহমান এরই মধ্যে ফ্লোরিডা থেকে ঢাকায় এসেছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনার পর তিনি বাংলাদেশে কাজ শুরু করতে চান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তথা বাংলাদেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া এ উদ্যোগ সাফল্যমণ্ডিত করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিল গেটস ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহায়তা নেয়ার তেমন প্রয়োজন হবে না যদি বাংলাদেশ সরকার এ পরিকল্পনাকে লুফে নেয়। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এরই মধ্যে মলমূত্র সংরক্ষণের প্রকল্প চালু হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, টয়লেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলাকাভিত্তিক পাহারাদার নিয়োগ করা হবে। সেসব অসামাজিক কাজের জন্য কিংবা অপরাধীদের আস্তানা হিসেবে কেউ যাতে ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যবস্থাও করা হবে।
সূত্র : এনা।